Home বিনোদন আজ শট দেব, কাল হিট হবে, পরশু তারকা হব—এভাবে হয় না

আজ শট দেব, কাল হিট হবে, পরশু তারকা হব—এভাবে হয় না

ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের বেশ কিছু নাটক এবার ঈদে পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। ওদিকে সীমানা পেরিয়ে ভারতের কলকাতায়ও দারুণ জনপ্রিয় তিনি। ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘ডিকশনারি’ ছবিটি মুক্তির পর সেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে অন্য মাত্রা। কথা হলো এই অভিনেতার সঙ্গে।

আপনাকে বেশ কয়েকবার কল করলাম, বার্তা পাঠালাম। কোনো সাড়া নেই।

আমি সত্যিই দুঃখিত। এটা আমার একটা বাজে স্বভাব বলতে পরেন। ফোনটোন ধরা হয় না। আমাকে ইদানীং ফোনে পাওয়া একটু মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আর কাল রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে একটা ওটিটির ওয়েব সিরিজের শুটিং করেছি। এতক্ষণ একটা নাটকের গল্প শুনছিলাম। এখন একটু সময় পেয়ে কথা বলছি।

মোশাররফ করিম

মোশাররফ করিম 
সংগৃহীত

ঈদ নাকি যশোরে কাটালেন?

আমি তো সেই সময় ব্যক্তিগত কাজে পরিবারসহ ভারতে গিয়েছিলাম। লকডাউনে আটকা পড়লাম। বাংলাদেশে ঢোকার পর যশোরের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পালন করলাম। সেই ১৪ দিনের এক দিন ছিল ঈদের দিন। এ এক অন্য রকম ঈদ।

এবারের ঈদে আপনার অভিনীত বেশ কিছু নাটক সমাদৃত হয়েছে। আপনি কি নাটকগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট?

অস্বীকার করা যাবে না, আমরা সব সময় নানান সংকটকে সঙ্গী করে নাটক করি। কিন্তু এখন দর্শকের সামনে অনেক দরজা খোলা। সে চাইলে ভারতীয় কনটেন্ট বা হলিউডের মারদাঙ্গা সিনেমা দেখেও ঈদ উৎসব কাটাতে পারে। কিন্তু এসব খোলা ময়দানে দর্শক গরম ভাতের গন্ধ, কাল্লু সুইপার, কঙ্কাল চোর, সাদা মানুষ, সীমার নাটকগুলো দেখেছে। ইউটিউবে ট্রেন্ডিংয়ে চলছে ‘শেষটা অন্য রকম ছিল’। মাত্র চার দিনে প্রায় ৪০ লাখবার দেখা হয়েছে এ নাটক। এটাকে আমি বলব দর্শকদের দেশপ্রেম। আমরা একটা অপেশাদার জায়গায় অল্প বাজেটে কাজটাকে ভালোবেসে করি, নির্মাতারাও ভালোবেসে বানান, আর দর্শকও ভালোবেসে দেখেন। দর্শকদের আমার বা আমাদের এসব নাটক দেখাকে, ভালো–মন্দ আলোচনা করাকে আমি দেশপ্রেম ছাড়া আর কী বলব?

মোশাররফ করিম ও তানজিন তিশা অভিনীত ‘শেষটা অন্য রকম ছিল’ নাটকটি চারদিনে ৪০ লাখ মানুষ দেখেছেন

মোশাররফ করিম ও তানজিন তিশা অভিনীত ‘শেষটা অন্য রকম ছিল’ নাটকটি চারদিনে ৪০ লাখ মানুষ দেখেছেন
ফেসবুক থেকে

সংকটের কথা বললেন। আপনার মতে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় সংকট কী?

এটা তো একটা প্রক্রিয়াগত ব্যাপার। সেই প্রক্রিয়ার খুবই জরুরি আর প্রাথমিক একটা স্তম্ভ হলো ইনস্টিটিউশন। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখার জায়গার তীব্র অভাব। বিষয়টা এমন যে আমাদের পাটকল আছে। কিন্তু পাটের উৎপাদনক্ষেত্র নেই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটা তো একেবারে ছোট নয়। যথেষ্ট বড়। প্রচুর নাটক হচ্ছে। ভালো সিনেমা তৈরির চেষ্টা চলছে। থিয়েটারের মাধ্যমে হয়তো অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে কিছু। কিন্তু চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা, প্রযোজনা, সম্পাদনা, মেকআপসহ নানা টেকনিক্যাল কাজ শেখার জায়গা নেই।

মোশাররফ করিম

মোশাররফ করিম 
ইনস্টাগ্রাম

থিয়েটারগুলোও তো ঢাকাকেন্দ্রিক। সেগুলো সংখ্যা বা মানের দিক থেকেও যথেষ্ট নয়…

হ্যাঁ, একদমই তাই। এই যে উত্তরা, এত বড় একটা এলাকা, কিন্তু এখানে কোনো মঞ্চ নেই। মফস্বলের মানুষ কোথায়, কীভাবে অভিনয় শিখবে? এটা তো একটা ব্যাপার। আরেকটা হলো শিল্পের সঙ্গে বসবাস, একটা সুদীর্ঘ পথ। চট করে ফলাফল চাইলে হবে না। থিয়েটার তো ছয় মাসের কোর্স, এক বছরের ব্যাপার নয়। এটা একটা জীবনযাপন পদ্ধতি। আজ শট দেব, কাল হিট হবে; পরশু নাম, টাকা কামিয়ে তারকা হব— এভাবে হয় না। যারা এ কাজগুলো প্রাণের তাগিদে করে, আনন্দের জন্য করে, কেবলই তাদেরই থাকা উচিত।

মোশাররফ করিম

মোশাররফ করিম
ইনস্টাগ্রাম

আপনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে ১৬ বছর মঞ্চে কাজ করেছেন। কিন্তু যেভাবে বললেন, ওভাবেও তো রাতারাতি অনেক তারকা অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে। সেই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

দেখুন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সাবলীলভাবে ডায়ালগ বলা আর চরিত্রের প্রতি জাস্টিস করে অভিনয় করা—দুটো এক কথা নয়। একটা ডায়ালগ নিয়ে একজন শিল্পী ভাববেন। কতভাবে বলা যায়, সেটি আয়ত্ত করবেন। এর ভেতর ওই চরিত্রটা কীভাবে সংলাপটা বলবে, সেভাবেই তাঁকে সংলাপটা বলতে হবে। কিন্তু এখানে দেখা যায় ওই ব্যক্তি যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেভাবেই সংলাপ দিচ্ছেন, অভিনয় করছেন। ফলে অভিনেতা চরিত্রের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। চরিত্রটা পর্দায় ওই অভিনেতার মতোই আচরণ করছেন। অবশ্য সাবলীল বলে দর্শক ফাঁকটা ধরতে পারছেন না। ফলে চরিত্রের শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার ধরাছোঁয়ার বাইরে গিয়েই সহজভাবে সংলাপ বলে অনেকে তারকা বনে যাচ্ছেন। এটা শিল্পের প্রতি অন্যায়, অসততা।

‘ডিকশনারি’র পর আপনি তো ব্রাত্য বসুর পরের ছবিতেও অভিনয় করবেন?

হ্যাঁ। আমি যখন ডিকশনারির শুটিং করি, তখনই পরিচালক আমাকে তাঁর পরের ছবিতে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ই আমি গল্প শুনি। হুগলির গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামলের বায়োপিক।

মোশাররফ করিম ও রোবেনা রেজা। ছবি : সংগৃহীত

মোশাররফ করিম ও রোবেনা রেজা। ছবি : সংগৃহীত

দুই বাংলার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

দেখুন, বাংলাদেশেই একেক পরিচালকের কাজের স্টাইল একেক রকম। কেউ হয়তো খুবই গুছিয়ে কাজ করেন। আবার এমন পরিচালক আছেন, যিনি শুটিংটা হয়তো খুব গুছিয়ে করছেন না। কিন্তু মনে মনে গল্প বা চরিত্রের ব্যাপারে খুব গোছানো, পরিষ্কার। যেমন এস এম সুলতানের কাজ এক রকম, আবার শাহাবুদ্দিনের ছবি আরেক রকম। তাই মোটা দাগে বলা যাবে না যে এই বাংলায় এ রকম, ওই বাংলায় সে রকম।

বাংলাদেশে আপনার জনপ্রিয়তাকে ভারতীয় মিডিয়া শাহরুখ খানের সঙ্গে তুলনা করল। আবার সে দেশের একটা ইন্টারভিউতে দেখলাম বলা হচ্ছে ঢালিউড যদি বলিউডের মতো হতো, তাহলে আপনি সেখানকার একজন নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী হতে পারতেন। কী বলবেন?

যে দুজনের নাম নেওয়া হয়েছে, তাঁরা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় শিল্পী। কিন্তু তুলনা সব সময়ই আমার জন্য একটু অস্বস্তিদায়ক। আমি শাহরুখ খান বা নওয়াজুদ্দিন নয়, সব সময় কেবলই মোশাররফ করিম হতে চেয়েছি।

নওয়াজুদ্দিন যেমন বৈচিত্র্যময় সব জটিল চরিত্রগুলোকে বড় পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন, আপনারও হয়তো সে রকম ক্ষমতা ছিল। কিন্তু চিত্রনাট্য, চরিত্র বা পরিচালক পাননি। তাঁরা হয়তো সেই বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন। আপনার সেই আফসোস হয় কি না?

না, আমার কোনো কিছু নিয়ে কোনো আক্ষেপ বা আফসোস নেই। সময়ের সঙ্গে আমি শিখেছি, আফসোস, আক্ষেপ এগুলো করতে নেই। যা আছে, তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। আমি যা পেয়েছি, যত দূর এসেছি, এগুলো তো না–ও ঘটতে পারত! তাই সবকিছু নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি কী?

প্রথমবার সন্তানের মুখ দেখা, ছেলেকে কোলে নেওয়া। এই অনুভূতি আসলে বলে বোঝানো যাবে না। আল মাহমুদ একবার বলেছিলেন যে কবিকে কখনো জিজ্ঞেস করো না যে কীভাবে সে কবিতা লেখে। সে যখন কবিতা লেখে, তখন সে ছোড়ার আগমুহূর্তে ধনুকে টাঙানো তিরের মতো টানটান হয়ে থাকে। লেখা হয়ে গেলে যে জলের মতো তরল হয়ে টুপ করে পড়ে। আমার ঠিক করে মনে নেই। তবে এ রকম করে বলেছিলেন। এই অনুভূতির বর্ণনা হয় না।

সময়ের সঙ্গে আমি শিখেছি, আফসোস, আক্ষেপ এগুলো করতে নেই। যা আছে, তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

মোশাররফ করিম

মোশাররফ করিম
প্রথম আলো

এত ব্যস্ততার ভেতর আপনি স্ত্রী–পুত্রকে সময় দেন কখন?

আমি আসলে খুবই চমৎকার একটা যৌথ পরিবারে থাকি। আমি, আমার মা, স্ত্রী, পুত্র, ভাইয়ের পরিবার, তাঁদের মেয়েরা সবাই একসঙ্গে থাকি। তাই আমি ব্যস্ত থাকলেও আমার অভাব ওরা তীব্রভাবে বোধ করে না। আর যখন দুই মাস, তিন মাস লম্বা ছুটিতে থাকি, পুরোটা সময় ওদের সঙ্গেই থাকি।

RELATED ARTICLES

মিয়ানমারে মানবাধিকার বিপর্যয়: জাতিসংঘ

মিয়ানমারজুড়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিস‌ংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট। তিনি বলেছেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে মানবাধিকার...

তদন্তে সাহায্য করতে মিঠুনকে আদালতের নির্দেশ

বলিউড তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে হিংসায় মদদ দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গতকাল শুক্রবার মিঠুনের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলা...

দেবহাটা করোনাকালীন মানব পাচার রোধে পুলিশের সাড়াশী অভিযান অব্যহত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও করোনাকালীন মানব পাচার রোধে পুলিশের সাড়াশী অভিযান অব্যহত রয়েছে। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহার দিক নির্দেশনায় ...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

মিয়ানমারে মানবাধিকার বিপর্যয়: জাতিসংঘ

মিয়ানমারজুড়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিস‌ংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট। তিনি বলেছেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে মানবাধিকার...

তদন্তে সাহায্য করতে মিঠুনকে আদালতের নির্দেশ

বলিউড তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে হিংসায় মদদ দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গতকাল শুক্রবার মিঠুনের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলা...

দেবহাটা করোনাকালীন মানব পাচার রোধে পুলিশের সাড়াশী অভিযান অব্যহত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও করোনাকালীন মানব পাচার রোধে পুলিশের সাড়াশী অভিযান অব্যহত রয়েছে। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহার দিক নির্দেশনায় ...

দেবহাটার জুয়েল হত্যা: দু’দিনের রিমান্ডে ইমরোজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় চাঞ্চল্যকর জুয়েল হত্যাকান্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার নিহতের অতি ঘনিষ্ট সঙ্গী ইমরোজ আলী ওরফে চোর ইমরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে ...

Recent Comments